দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নৈতিক পদস্খলন, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তসরুপসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে।
সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান সভাপতির স্বাক্ষরিত তিনটি চিঠিতে আম্মারের শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং তার সাথীপদ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। চিঠিগুলো দেশ টিভির হাতে এসেছে। এগুলো শিবিরের অফিসিয়াল প্যাডে না থাকলেও চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাথীপদ মূলতবি করা হয়। পরে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও সংশোধন না হওয়ায় তাঁর সাথীপদ বাতিল করা হয়।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ এবং নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁর সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ১১ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং তাকে বারবার সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পরও সংশোধন না হওয়ায় সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ বাতিল করা হয়েছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জুলাই রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগের সিদ্ধান্তগুলোর উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তসরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সালাহউদ্দিন আম্মার। পরবর্তী সময়ে সমন্বয়কদের কয়েকজনের ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় আম্মারের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়।
রাকসু নির্বাচনে আম্মারের নেতৃত্বে শিবিরের ‘ডামি’ প্যানেল ঘোষণার বিষয়েও ক্যাম্পাসে আলোচনা ছিল। ওই প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে আকিল বিন তালেব। মেহেদী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আম্মার ও শিবিরের নেতাকর্মীরা এসব বিষয়ে বরাবরই ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
শিবিরের সঙ্গে আম্মারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য বহিষ্কার হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানোর নিয়ম নেই। তাঁর দাবি, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় পড়ার সময় আম্মার শিবিরের সাথী পদে যুক্ত ছিলেন এবং পরে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল।
মেহেদী হাসান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শিবির বিভিন্নভাবে আম্মারকে প্রটোকল ও আশ্রয় দিয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়ম ও ইসলামী পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সেপ্টেম্বরে তাঁকে সাথীপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিবিরের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, তিনটি চিঠির তথ্য সঠিক। আম্মার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বহিষ্কারের পর তাঁর সঙ্গে সংগঠনের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
যে আই